কিশোরগঞ্জ পাগলা মসজিদের ইতিহাস। কিভাবে পাগলা মসজিদ যাবো?
কিশোরগঞ্জ পাগলা মসজিদ নাম'টা শুনলেই কেমন যেনো একটা অনুভূতি কাজ করে। কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ শুধু কিশোরগঞ্জেই নয়, পুরো বাংলাদেশর মানুষের কাছে এক অনুভূতি ও আবেগের নাম। কিশোরগঞ্জ পাগলা মসজিদ বাংলাদেরশের মুসলিমদের অন্যতম ইবাদতের জায়গা। মানুষের মুখে প্রচলিত আছে যে পাগলা মসজিদে দাব বা মানত করলে নাকি মনের আশা পূরণ হয়। কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় না, কিশোরগঞ্জের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম এই পাগলা মসজিদ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষজন কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ দেখার জন্য এখানে ঘুরতে আসে। আজকে আমরা জানবো কিশোরগঞ্জ পাগলা মসজিদের ইতিহাস সম্পর্কে?
এই আর্টিকেলে আমারা জানবো, পাগলা মসজিদের ইতিহাস সম্পর্কে। পাগলা মসজিদ কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো? কেনোই বা এই মসজিদের নাম পাগলা মসজিদ রাখা হয়েছে? আরোও জানবো কেনো কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ বাংলাদেশের মানুষের কাছে এতো জনপ্রিয়? কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে কিছুটা ধৈর্য্য সহকারে এই পুরো আর্টিকেলটি পড়তে হবে আপনাকে। তাই আপনাকে অনুরোধ করবো, একটু ধৈর্য্য সহকারে এই পুরো আর্টিকেলটি পড়ার জন্য। আপনি যদি এই সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়েন তাহলে, আশা করি কিশোরগঞ্জ পাগলা মসজিদের ইতিহাস সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পারবেন। জানতে পারবেন পাগলা মসজিদ কোথায় অবস্থিত?
পাগলা মসজিদ কোথায় অবস্থিত?
পাগলা মসজিদ নামের সাথে জড়িয়ে আছে হাজারো আবেগ, অদ্ভুত সব অনুভূতি আর রহস্যময় কিছু অজানা তথ্য। ছোট-বড় সকলের কাছে সু-পরিচিত নাম 'কিশোরগঞ্জ পাগলা মসজিদ'। শুধু কিশোরগঞ্জের মানুষের কাছেই নয়, বাংলাদেশের সকল মানুষের কাছে পরিচিত এই পাগলা মসজিদ।
কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার হারুয়া এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নরসুন্ধা নদীর তীরে অবস্থিত এই 'পাগলা মসজিদ'। মসজিদ'টির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ঐতিহাসিক নরসুন্ধা নদী। শুধু ধর্মীয় উপাসনালয় হিসেবেই নয়, কিশোরগঞ্জের পর্যটনকেন্দ্র গুলোর মধ্যে অন্যতম স্থান হিসেবে সু-পরিচিতি লাভ করেছে কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ'টি। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষজন দেখতে আসে এই পাগলা মসজিদ'টি আবার কেউ বা আসে মানত পূরণ করতে। এই আর্টিকেলে আমরা পাগলা মসজিদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তাই একটু ধৈর্য্য সহকারে আর্টিকেল'টি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ রইলো। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে সেই তৌফিক দান করুক, সুস্থ রাখুক, ভালো রাখুক, ইসলামের পথে অটল থাকার তৌফিক দান করুক, আমিন। 🤲🏼✨
পাগলা মসজিদের নামকরণ ও ইতিহাস?
কিশোরগঞ্জের পর্যটনকেন্দ্র গুলোর মধ্যে যেমন অন্যতম স্থাপনা হিসেবে পরিচিত এই পাগলা মসজিদ। ঠিক সেভাবেই পুরো বাংলাদেশের মানুষের কাছে অন্যতম ধর্মীয় উপাসনালয় হিসেবে সু-পরিচিতি লাভ করেছে এই মসজিদ'টি। কীভাবে এই মসজিদ'টির নামকরণ করা হয়েছিলো? কেনো এই মসজিদ'টির নামকরণ করা হয়েছিলো “পাগলা মসজিদ”? সে বিষয়ে জানাবো বিস্তারিত।
প্রচলিত আছে বা ধারণা করা হয় যে, একজন আধ্যাত্মিক সাধক নরসুন্ধা নদীর বুকে মাদুরে করে ভেসে আসে এই স্থানে এবং এখানেই অবস্থান নেয়। ধীরে ধীরে তাকে ঘিরে মানুষজন/ভক্তদের সমাগম হতে থাকে। নরসুন্ধা নদীর বুকে মাদুরে করে ভেসে আসা এই আধ্যাত্মিক ব্যাক্তি/সাধকের মৃত্যুর পর তাকে এখানেই কবর দেওয়া হয় এবং তার কবরের পাশেই নির্মাণ করা হয় এই মসজিদ'টি। যেটি বর্তমানে বাংলাদেশর মানুষজনের কাছে পাগলা মসজিদ নামে সু-পরিচিত নাম।
অন্য আরেকটি জনমত থেকে জানা যায়/ধারণা করা হয় যে, প্রাচীন বাংলার ১২ ভূঁঞাদের মধ্যে অন্যতম বীর ঈশাখাঁ এর বংশধর হয়বতনগরের প্রতিষ্ঠাতা দেওয়ান হযরত খাঁ দৌহিত্র দেওয়ান জিলকদর খাঁন (জিলকদর পাগলা নামে পরিচিত) নামের এক ব্যক্তি এখানে নরসুন্দা নদীর তীরে ধ্যানমগ্ন থাকতেন এবং নামাজ পড়তেন। পরবর্তীতে তার নাম অনুসারে এই মসজিদ'টির নামকরণ করা হয়েছিলো পাগলা মসজিদ।
স্থানীয় অন্য আরেকটি জনমত থেকে জানা যায়/ধারণা করা হয় যে, হয়বতনগর এলাকার জমিদার দেওয়ান হয়বত দাত খাঁন এর তৃতীয় পুরুষ জোলকরণ খানের বিবি (স্ত্রী) আয়শা দাত খাঁন এই মসজিদ'টি প্রতিষ্ঠাতা করেছিলেন। তিনি (আয়েশা দাত খাঁন) ছিলেন নিঃসন্তান। প্রজারা/মানুষেরা তাকে ‘পাগলা বিবি’ বলে ডাকতেন। একদিন স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে তিনি (আয়েশা দাত খাঁন) দেওয়ানবাড়ি থেকে কিছুটা দূরে নরসুন্দা নদীর তীরে এই মসজিদ'টি প্রতিষ্ঠিত করেন। যেটি বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষজনের কাছে 'পাগলা মসজিদ' নামে সু-পরিচিতি অর্জন করেছে। আজ থেকে প্রায় আড়াইশো বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এই ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ'টি।
পাগলা মসজিদের অবস্থান এবং স্থাপত্যশৈলী?
দেশ ও দেশের বাহিরে মানুষের কাছে সু-পরিচিত এই পাগলা মসজিদ'টি কিশোরগঞ্জের নরসুন্ধা নদীর তীরে ৩ একর ৮৮ শতাং জমির উপরে নির্মিত হয়েছে। মসজিদ'টিতে রয়েছে ১ টি সু-উচ্চ মিনার এবং ৩ টি গম্ভুজ। মসজিদ'টির ডান পাশেই রয়েছে বিশাল অজুখানা এবং তার পাশ দিয়েই বয়ে গেছে নরসুন্ধা নদী।
কেন মানুষের কাছে পাগলা মসজিদ এতটা জনপ্রিয়?
সকল ধর্মের মানুষের কাছেই কিশোরগঞ্জের এই পাগলা মসজিদটি একটি সার্বজনীন ধর্মীয় উপাসনালয়। মানুষজন বিশ্বাস করেন যে, যদি কেউ একনিষ্ঠ নিয়তে পাগলা মসজিদে (টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার বা হাঁস-মুরগি বা গবাদিপশু) কোনকিছু দান করেন তাহলে মনের চাওয়া বা বাসনা পূরণ হয়। ঐতিহাসিক এই পাগলা মসজিদটি মূলত এর অলৌকিকত্ব ও মানত পূরণের প্রবল বিশ্বাসের কারণেই মানুষের কাছে এতোটা জনপ্রিয়।
পাগলা মসজিদে দান বা মানত করলে কী মনের আশা পূরণ হয়?
জনশ্রুতি আছে যে, কিশোরগঞ্জের এই পাগলা মসজিদে দান করলে নাকি মনের আশা পূরণ হয়। শুধু মুসলিমরাই নয় বিভিন্ন ধর্মের মানুষেরা এখানে দান বা মানত করে থাকেন। মানুষজন বিশ্বাস করেন যে, যদি কেউ একনিষ্ঠ নিয়তে পাগলা মসজিদে (টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার বা হাঁস-মুরগি বা গবাদিপশু) কোনকিছু দান করেন তাহলে মনের চাওয়া বা বাসনা পূরণ হয়।
- প্রথমতঃ হাদিসে বর্ণিত তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন মসজিদে ছওয়াব অর্জনের উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তিনটি মসজিদ ব্যতীত (ছওয়াবের উদ্দেশ্যে) সফর করা যায় না। সেই ৩ টি মসজিদ হলো, মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদুল আক্বছা’ (বুখারী হা/১১১৫; মুসলিম হা/২৪৭৫; মিশকাত হা/৬৯৩)। অন্য সকল মসজিদের গুরুত্ব সমান।
- দ্বিতীয়তঃ মনের আশা পূরণ করা বা না করার বিষয়টি সবটাই মহান আল্লাহ তা'য়ালার হাতে। মনের আশা পূরণ হওয়া বা না হওয়া এতে কোন মসজিদ বা স্থানের গুরুত্ব নেই। আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, ‘আর তারা আল্লাহ ব্যতীত এমন সব বস্ত্তর উপাসনা করে, যা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না। অথচ তারা বলে এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুফারিশকারী’ (ইউনুস ১০/১৮)।
- তৃতীয়তঃ কোন স্থান বা মসজিদ মানুষের উপকার বা ক্ষতি করতে পারে এমন বিশ্বাস করা শিরক। যা থেকে বেঁচে থাকা প্রতিটা মুসলিমের জন্য আবশ্যক।
অতএব ‘দান করলে মনের আশা পূরণ হয়’ এই নিয়তে উক্ত মসজিদে দান বা মানত করা সম্পূর্ণ হারাম। এ থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেকটা মুসলিমের জন্য অপরিহার্য।
পাগলা মসজিদে কিভাবে দান করবো?
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে সরাসরি এসে দান, সদকা করা যায়। বর্তমানে সবকিছুই আধুনিক হয়েছে। এখন থেকে ঘরে বসেই ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে অনলাইনে নিয়মিত দান করা যাবে। দেশ-বিদেশের সকল ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে ‘পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্স’ এর অনলাইন ডোনেশন পদ্ধতি। এখন থেকে যে কেউ চাইলেই খুব সহজেই মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (যেমনঃ বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়) ও অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে দান করতে পারবেন।
সামাজিক কার্যক্রম; পাগলা মসজিদের এতো টাকা কোথায় ব্যয় হয়?
কিশোরগঞ্জের এই পাগলা মসজিদে দান করলে মনের আশা বা মানত পূরণ হয়, এই ধারণা থেকে মানুষজন প্রচুর পরিমাণে অর্থ, সোনা দানা, বৈদেশিক মুদ্রা এবং হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু দান করে থাকেন। শুধু দেশ থেকেই নয় দেশের বাহিরে থেকে অনেকই দান করেন। প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস পর পর খোলা হয় পাগলা মসজিদের দান বাক্স আর সেখান থেকেই মিলে কোটি কোটি নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার আর বৈদেশিক মুদ্রা। এর পাশি মিলে বিভিন্ন ধরনের চিটি।
পাগলা মসজিদের দানের টাকার একটা অংশ এই মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খাদেমদের বেতন ও মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যয় হয়। এছাড়াও দানের টাকা হতে আশেপাশের অনেক মসজিদ ও এতিমখানার উন্নয়ন এবং পরিচালনা, গোরস্তানের কাজে ব্যয় করা হয়। এছাড়াও দানের একটা অংশ স্থানীয় অসচ্ছল এবং বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা ও দুস্থদের আর্থিক সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় পাগলা মসজিদের আয় দিয়ে কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনে দেওয়া হয়েছিলো।
কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ এর আধুনিকায়ন প্রকল্প।
১০ আগস্ট, ২০২৫ ইং, রোববার, কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্স পরিচালনা কমিটির সাথে মতবিনিময় সভা শেষে করে, কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে বলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) কে জানিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। পাগলা মসজিদ আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। আধুনিক কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করা হলে ৬০ হাজার মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারবেন। তুরস্কের স্থাপত্যশৈলিতে কিশোরগঞ্জের এই পাগলা মসজিদ ওয়াকফ এস্টেটে ১০ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে। ১০ তলা বিশিষ্ট এই কমপ্লেক্সে মাদ্রাসা, এতিমখানা, লাইব্রেরি, মিলনায়তন ও অতিথিশালার ব্যবস্থাও থাকবে বলেও জানা গেছে। (উইকিপিডিয়া: পাগলা মসজিদ)
পাগলা মসজিদের ইমাম কে ছিলেন? পাগলা মসজিদের বর্তমান ইমাম কে?
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের অন্যতম পেশ ইমাম হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন মুফতি খলিলুর রহমান। তাঁর কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ বা স্থায়ীত্বকাল জানা নেই। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মুফতি মিসবাহ উদ্দীন রহমানীকে পাগলা মসজিদের পেশ ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাগলা মসজিদের বর্তমান পেশ ইমাম মুফতি মিসবাহ উদ্দীন রহমানী।
পাগলা মসজিদের বিগত ৩ বছরে প্রাপ্ত দানের টাকার পরিমাণ।
- ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর দানবাক্স খুলার পর ৬ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া গেছে।
- ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল, ৪ মাস ১০ দিন পর দানবাক্স খুলার পর পাওয়া যায় ৭ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৭ টাকা। সাথে বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে।
- ২০২৪ সালের ১৭ আগষ্ট দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৭ কোটি ২২ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া গেছে।
- ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।
- ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল, ১১টি দানসিন্দুক খুলে এবার রেকর্ড সংখ্যক ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা পাওয়া গেছে। (উইকিপিডিয়া: পাগলা মসজিদ)
এক নজরে ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ।
| ধর্ম ও অবস্থান | |
| ধর্ম অন্তর্ভুক্তি | ইসলাম |
| নেতৃত্ব | মুফতি মিসবাহ উদ্দীন রহমানী, পেশ ইমাম |
| পৃষ্ঠপোষক | ওয়াকফ্ স্টেট |
| অবস্থান | কিশোরগঞ্জ সদর |
| দেশ | বাংলাদেশ 🇧🇩 |
| স্থাপত্য | |
| স্থাপত্য শৈলী | আধুনিক |
| অর্থায়নে | মুসল্লি |
| বিনির্দেশ | |
| ধারণক্ষমতা | ৬০০০ |
| অভ্যন্তরীণ | ৩.৮৮ একর |
| গম্বুজসমূহ | ৩ টি |
| মিনার | ১ টি |
| ওয়েবসাইট | |
| https://paglamosque.org/ | |
লেখকের মন্তব্য...
প্রিয় পাঠক, আশা করি কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ইতিহাস সম্পর্কে আপনি বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানলাম পাগলা মসজিদ কোথায় অবস্থিত, কীভাবে এই মসজিদ'টির নামকরণ হয়েছিলো এবং কেনোই বা এই মসজিদ'টি বাংলাদেশের মানুষের কাছে এতোটা জনপ্রিয়।
একটা কথা মনে রাখবেন, পাগলা মসজিদ একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উপাসনালয়। এখানে দান-সদকা করা অবশ্যই ভালো কাজ। তবে "দান করলে মনের আশা পূরণ হবে" এই নিয়তে দান বা মানত করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। কারণ মনের আশা পূরণ করা বা না করার ক্ষমতা একমাত্র মহান আল্লাহ তা'য়ালার। কোনো মসজিদ বা স্থান এই ক্ষমতা রাখে না। তাই সতর্ক থাকুন, শিরক থেকে বেঁচে থাকুন।
আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দান করুক, শিরক ও বিদআত থেকে হেফাজত করুক এবং ইসলামের পথে অটল রাখুক। আমিন। 🤲🏼✨
আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আর্টিকেলটি যদি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধু ও পরিচিতজনদের সাথে শেয়ার করুন। যাতে তারাও কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারে। আল্লাহ হাফেজ। 😊



